প্রেসবিজ্ঞপ্তি:
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (ইউকে) এর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট।
যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট আজ অনুষ্ঠিত হয় ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্ট স্কয়ারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি বাংলাদেশের অবৈধ ইউনুস সরকার এবং তার তথাকথিত “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানায় — যে মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যে কর্মরত শত শত ব্যারিস্টার, সলিসিটার, অ্যাডভোকেট ও অন্যান্য আইনজীবী। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারের মাধ্যমে আইসিটি আদালতের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং এই আদালতের বিচারের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত বলে মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী এই আদালত কেবলমাত্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। ২০২৪ সালের তথাকথিত অপরাধ বিচার করার কোনো বিধান ওই আইনে নেই। সুতরাং, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এই আইনে মামলা করা আইনবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী।
বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান অবৈধ, অশংবিধানিক ও রাজাকার-সমর্থক ইউনুস সরকার জামায়াত-ই-ইসলামী ও যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা অভিযোগ করেন, এই বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, এই আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ বিচারক ও আইনজীবী জামায়াতপন্থী বা বিএনপি ঘরানার, যারা অতীতে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছেন। তাই এই আদালত থেকে কোনোভাবেই ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, যদি কোনো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আদালতে বিচার হয়, তবে তিনি সেই বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কিন্তু অবৈধ ইউনুস সরকার বৈধ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে মিথ্যা প্রহসনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রহসনমূলক ও জালিয়াতির বিচার অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার সঞ্জয় কুমার রায়, এবং এতে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অসংখ্য আইনজীবী।


