সবাই তো আর বিদ্যাসাগর না!

হরমুজ আলী-
বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ দোয়াও করছে বলে আমি বিশ্বাস করি। এটা শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, মৃত্যুপথযাত্রীর জন্য দোয়া-আশীর্বাদ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিরও চিরায়ত ঐতিহ্য। ইতোমধ্যে বেপারি ইউনুসও তার সভাসদ নিয়ে ‘রাজনৈতিক দোয়া’ করেছেন! সবই ঠিক আছে।
এই মর্মান্তিক বিষয়টি নিয়ে কারোরই রাজনীতি করা উচিৎ বলে আমি মনে করিনা। আমারও এই লেখাটি লেখার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা, যদি না খালেদা জিয়ার একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক জিয়ার একটা ফেইসবুক পোস্ট (যা নিয়ে প্রথম আলো নিউজ করেছে) আমার চোখে পড়তো! এসময়টাতে আমি পনেরোই আগষ্ট কিংবা একুশে আগষ্টের হৃদয়বিদারক চর্চা নিয়ে কথা বলতে চাইনা। এই সংস্কৃতিও আমি নিজে কিংবা আমার দল লালন করেনা।
তারেক জিয়াও তার মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন, সেটাও ঠিক আছে; কিন্তু, এই সময়ে মায়ের পাশে থাকতে না-পারার যে যুক্তি দিয়েছেন (এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়) সেটা পড়ে আমার স্বর্গীয় বিদ্যাসাগরের কথা মনে পড়ে গেলো। ভাবলাম, বিদ্যাসাগর তো আর রাজনীতি করতেন না, সেজন্যে তাঁর পক্ষে মায়ের ডাকে নদী সাঁতরে মায়ের কাছে চলে যাওয়া সম্ভব চিলো; কিন্তু তারেক জিয়াতো রাজনীতি করেন, তার নিজস্ব ‘হিসেবনিকেশ’ আছে! সুতরাং, মামলা-মোকদ্দমা না-থাকার পরও ‘মায়ের ডাকের’ সাথে তাকে কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে! কী করুণ না! যে রাজনীতি এতোটাই নিদারুণ, সে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট আছি বলে আমরা কতোইনা বড়াই করি! বিদায়বেলায় পুত্রের হাত আঁকড়ে ধরবার মাতৃত্বের যে শাশ্বত কাতরতা, বেগম খালেদা জিয়ার মাতৃহৃদয়ের অনুরণন এর থেকে ভিন্ন ভাববার তো কোনো কারণ নেই। আমার কিন্তু খুব খারাপ লাগছে।
রাজনীতি কী চিরকালই ক্ষমতায় যাবার সোপান হয়ে থাকবে! রাজনীতি কী মানবমুক্তির জয়গানে ‘সম্মিলিত মানুষের মিছিল’ এর চরিত্র ফিরে পাবেনা, কোনোদিন!
লেখক- কবি, রাজনীতিবিদ ( সহ সভাপতি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ )



